যেমন শুনা যায় আসলে বিজনেসটা তেমন সহজ না।ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলেই হাজার হাজার ডলার, ক্লাস শুরু করার দ্বিতীয় সপ্তাহেই ২০ ডলার ইনকাম করল আদম আলী – এইসব একদম জালিয়াতি কথা। এগুলা যারা বলে তাদের থেকে দূরে থাকুন। এরাই চিটার।ফ্রিল্যান্সিং বলতে বুঝাবে আপনি আপনার স্কিল সারা বিশ্বে যে কারো কাছে সেল করেন। কারো অধীনে চাকরি করেন না। এটি একটা বিজনেস।ফ্রিল্যান্সিং শিখায়?

ফ্রিল্যান্সিং কেউ কাউকে তেমন একটা শিখাতে পারে না। শিখাতে পারে টেকনিক্যাল স্কিল। তাও একজন ভাল টিচার ৩-৬ মাস যে সময় দিয়ে শিখায় তাঁর চেয়ে ১০০ গুণ বেশি সময় আপনাকে নিজে নিজে শিখতে হবে। ধরে নিতে হবে টিচার শুধু হাতে খড়ি দিয়ে কাজটা ধরিয়ে দিতে পারেন। এরপর আপনাকে অনলাইন রিসোর্স থেকে (ওয়েব সাইট/ ভিডিও) থেকে শিখতে হয়। শিখার জন্য অনলাইনে প্রচুর রিসোর্স আছে । কতক ফ্রি, কতক পেইড।

আপনি একটা স্কিলে দক্ষতা অর্জন করলেন। এই স্কিলের সার্ভিস অনলাইনে সেল করবেন বা লোকাল ক্লায়েন্টের কাছে সেল করবে- এই বিজনেসটা হল ফ্রিল্যান্সিং। এটি দুই চার ছয় মাসে কেউ শিখাতে পারে না। কেউ শিখায় না। শিখায় টেকনিক্যাল স্কিল।

আজকে থেকে আর বলবেন না যে, আমি ফ্রিল্যান্সিং শিখব বা কোন টিচার বলতে পারে না আমি ফ্রিল্যান্সিং শিখাই।কম্পিউটার শিক্ষা জরুরি কিনাঃ

সিএসই অধ্যয়ন করছেন বা পাশ করেছেন তাদেরকেও প্রচুর পরিমাণ শিখতে হয়। কারন খুব কম ছেলেমেয়ে আছেন যারা সিএসই পাশের সময় পর্যন্ত ২-৩ টা ক্যাটাগরি বা একটা ক্যাটাগরিতে দক্ষ হয়। ইনাদেরকে চাকরি পাবার পরে বিশেষ স্কিলে বিপুল পরিমাণ পড়াশুনা করতে হয় এবং শিখতে হয়। তবে সিএসই করা ব্যক্তি যা শিখতে পারেন সাধারণ মানুষ সেই সব স্কিল শিখতে পারেন না। লাখে একজন থাকতে পারেন।আরেকটা বিষয় হচ্ছে- যে কোন টেকনিক্যাল স্কিল দিনে দিনে আপডেট হয়। এইজন্য অনবরত শিখতে হয়, নিজেকে আপডেট রাখতে হয়।ফ্রিল্যান্সারদের কতজন কম্পিউটার শিক্ষিত?

কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশুনা না করেও ফ্রিল্যান্সিং করা যায় । আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ৯৫% ফ্রিল্যান্সার কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়েন নাই। আমি নিজে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স করে মাইক্রোসফট প্রোগামিং শিখেছি ২০০৩-০৪ সালে। সেই থেকে দেশে এবং বিদেশে কাজ করছি। ২০১৫ থেকে ফ্রিল্যান্সিং করছি। সোনালী ব্যাংকের এসপিও/ম্যানেজার থাকা কালে শুরু করেছিলাম।অন্যান্য যোগ্যতাঃ

টেকনিক্যাল স্কিল ছাড়াও আরও দুইটা স্কিল লাগে

(১) ইংরেজী বলা এবং লেখার উপর ভাল দখল এবং

(২) ফ্রিল্যান্সিং বিজনেস করার জন্য ব্যবসায়িক জ্ঞান বুদ্ধি।

যার এই তিনটি একসাথে আছে এবং প্রচণ্ড ইচ্ছা আছে এমন লোকেরাই সফল হয়। বাকি শত শত লোক আসে আর যায়।অনলাইন মার্কেটঃ

যে কোন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রচুর নিয়ম কানুন আছে। স্কিল শেখার সাথে সাথে এই সম্পর্কে পড়াশুনা করতে হয়। মার্কেটের নিয়ম কানুন ভাল ভাবে জেনে তারপরে একাউন্ট খুলতে হয়। আবার একাউন্ট খুলে কাজ করার সময়েও নতুন নতুন পলিসি শিখতে হয়। আপনি যদি ফাইভার হেল্প বাংলাদেশ গ্রুপের মেম্বার হন তাহলে সামান্য ধারণা পাবেন। মার্কেটের ওয়েব সাইট, ভিডিও, ইউটিউব ভিডিও, অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারবেকেতঃআমি নিজে ৫ বছর সফল ভাবে ফ্রিল্যান্সিং করার পর কয়েক মাস আগে ফাইভারে একাউন্ট খুলেছি। একাউন্ট খোলার আগে এই মার্কেট সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি। আপনি এক- দুই মাসে মার্কেট সম্পর্কে ভাল ধারণা অর্জন করতে পারবেন।কেউ যদি বলে আমি সাত দিনে ফ্রিল্যান্সিং শিখাই তাহলে বুঝতে হবে ফ্রিল্যাসিং সম্পর্কে উনার ধারণা নেই এবং বুঝতে হবে যে উনি একটা বাটপার।কত দিন শিখবেনঃ

আপনার যে স্কিল ভাল লাগে সেটা শিখেন। ৬ মাস বা ১২ মাস। ইংরেজীর বলা এবং লেখার উপর দক্ষতা বাড়ান। এমন পর্যায়ে শিখতে হবে যে, একটা কাজ নিজে একা করে বায়ারকে খুশি করতে পারেন। কারন বায়ার টাকা খরচ করবে এই জন্য যে, সে নিজে পারে না বা তার সময় কুলায় না সেই কাজ আপনি করবেন।কোথায় শিখবেন?

সব প্রতিষ্ঠান চিটার বাটপার না। বেশ ৫-৭ টা প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো নাম করা। তারা কিন্তু বলে না যে, তারা ফ্রিল্যান্সিং শিখায়।ফ্রিল্যান্সার কত আয় করে?

একটা উদাহরণ দিচ্ছি। কিছুদিন আগের হিসাব। আমার ব্যক্তিগত ধারণা। তবে মোটামুটি সঠিক আপ ওয়ার্কে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার ৬৫,০০০। কাজ করেন ৭,০০০। বাকি ৫৮,০০০ এইসব বাটপারের ছাত্র অথবা অযথা সামান্য কিছু শিখেই একাউন্ট করেছে। পরে আগের জায়গায় ফিরে গেছে।৭,০০০ এর মধ্যে তিন শ্রেণী। মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করেন এমন সিনিয়র ১০০-২০০ হতে পারেন। কম বেশি ৫০০-৭০০ জন যাদের ইনকাম মাসে কম বেশি এক হাজার ডলার । ৭,০০০ এর বাকিরা মাসে এক হাজারের কম এমনকি মাসে ১০০-২০০ ডলার। আরেকটা বিষয় হল যে, একই ফ্রিল্যান্সার ২-৩ টা মার্কেটে কাজ করেন।বাস্তব চিত্র নিজে দেখে নিনঃ

যারা দ্বিতীয় তৃতীয় গ্রেডে ফ্রিল্যান্সিং করছেন এবং মাসে ২০০-১০০০ বা বেশি আয় করেন তাদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেন। যদি কেউ আপনাকে সময় দেন তাহলে কথা বলেন। ২০-৫০ ডলারের একটা কাজ করতে কি কষ্ট হয় এবং কি ভাবে যোগাযোগ রাখতে হয়,ইংরেজী কতটা জানা লাগে টা জানুন। মার্কেট সম্পর্কে জানুন। ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট নিয়মিত দেখুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here