২০ টি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৩২ টি সড়ক বা মহাসড়কের একটি তালিকা দেয়া হলো। দেশগুলো হচ্ছেঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, চীন, আয়ারল্যান্ড, বলিভিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, আইসল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, আফ্রিকা (আলজেরিয়া / নাইজার / নাইজেরিয়া), চিলি, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড এবং ফ্রান্স।

১. হানা হাইওয়ে, হাওয়াই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ চির সবুজ বনাঞ্চল, জলপ্রপাত এবং স্বকীয়তার জন্য বিখ্যাত এই মহাসড়ক। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে রোড ট্রিপের জন্য আদর্শ জায়গা।

২. ওভারসীজ হাইওয়ে, ফ্লোরিডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ গাড়ি চালিয়ে সরাসরি একদম সাগরের মাঝখান দিয়ে চলে যাবেন। দুপাশে শুধুই সাগর দেখতে দেখতে গাড়ি চালিয়ে ১১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিবেন।

৩. প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ে, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ একে রোড ট্রিপের জন্য পৃথিবীর অন্যতম সেরা সাইট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৪. আটলান্টিক ওশান রোড, নরওয়ে। মাত্র ৫ মাইল দীর্ঘ সড়কটি আপনার কল্পনার সব মনোরম নৈসর্গিক শোভামন্ডলিত । সড়ক পথে চলতে চলতে দেখতে পাবেন দ্বীপ এবং সাগরে জেগে থাকা ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বিতরুপ। কেউ কেউ ভয়ঙ্কর সুন্দর এই সড়ককে গাড়ি চালানোর জন্য পৃথিবীর সুন্দরতম সড়ক হিসেবে বিবেচনা করেন। ছোট দ্বীপগুলোকে সংযুক্তকারী রোলার কোস্টার টাইপের আটটি সেতু এবং ‘ব্রীজ টু নোহয়্যার’ আপনাকে সমুদ্রে গাড়ি চালানোর অনুভূতি দিবে।

৫. ট্রোলস্টেইন, নরওয়ে। ১১টি হেয়ারপিন ব্যান্ড সমৃদ্ধ ৬৫.৮ মাইল দীর্ঘ এই সড়ককে ‘ট্রল ল্যাডার’ বলা হয়। গাড়ি চালাতে চালাতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৫৮ মিটার উঁচুতে উঠে যাবেন, যা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন থেকেও লম্বা।

৬. টুকটোয়াকটুক, কানাডাঃ আর্কটিক সাগররের পানি যখন বরফে রুপান্তরিত হয়ে যায় তখন এই রাস্তা ধরে আপনি ঠিক সাগরের বুকে গাড়ি চালাতে পারবেন।

৭. কনর পাস, আয়ারল্যান্ড। আয়ারল্যান্ড এর সর্বোচ্চ পর্বতমালার উপর দিয়ে যাওয়া রাস্তা দেশের সবচেয়ে সুন্দর ও সবচেয়ে বিপদজনক রাস্তাও বটে।

৮. গুলিয়াং ট্যানেল, চীন। বাস্তবিকই খাদের কিনারা দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।

৯. ভ্যালী অব ফায়ার রোড, নেভাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ চর্তুদিকে লাল বেলেপাথর ছড়ানো এই রাস্তায় মরুভূমির তপ্ত সূর্যের কিরণ উপক্ষো করে এক কথায় আগুনের মাঝখান দিয়ে গাড়ি চালানোর সমান।

১০. তিয়ানমেন মাউন্টেন রোড, চীনঃ পাহাড়ের উপরে ৯৯ টি বাক পেরুনো নিশ্চিত ভাবে খুবই বাড়াবাড়ি কিন্তু শেষ বাকটি পেরুনোর পর আপনি যখন নিজেকে আকাশের ৩,৯৩৯ ফুট কাছাকাছি দেখতে পাবেন তখন আপনি মুগ্ধ হবেন।

১১. উত্তর ইউঙ্গাস রোড, বলিভিয়াঃ একেতো ঘন কুয়াশা তার উপর একটু ভুল হলে পড়ে যাবেন ২০০০ ফুট গভীরে, ভাবুনতো কেমন লাগবে এই মরণফাঁদ সম রাস্তায় গাড়ি চালাতে।

১২. সানি পাস, দক্ষিণ আফ্রিকাঃ গাড়ি চালাতে চালাতে আপিন যখন ২,৮৭৬ মিটার বা ৯,৪৩৬ ফুট উচ্চতায় উঠে যাবেন তখন আপনাকে জানিয়ে রাখি আকাশে বিমান উঠে গড়ে ১০,০০০ ফুট উপর দিয়ে। তার মানে গাড়ি চালিয়ে আপনি আকাশে উড়া বিমানের সমান উচ্চতায় পৌছে যাবেন।

১৩. তাতায়াম কুরোব আলপাইন রুট, জাপানঃ রাস্তার দুইপাশে কঠিন বরফের দেয়ালের আর তার ভেতর দিয়ে আপনি গাড়ি চালাবেন, মাথা খারাপ করার মতো অবস্থা।

১৪. রেড রক সেনিক বাইওয়ে, আরিজোনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ নেভাডার ভ্যালী অব ফায়ার রোড এর সমগোত্রীয় আরেকটি রাস্তা।অন্যজাগতিক লাল পাথরের দৃশ্যাবলী আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

১৫. রুট ১, আইসল্যান্ডঃ চত্রাকার এই সড়কটির চর্তুদিকে হিমবাহ, বরফ গুহা, জলপ্রপাত আর রংধনুর বিচিত্র সমারোহ। এখানের সূর্যাস্তের দৃশ্যে একপাশে থাকে বরফ ঢাকা পাহাড় আর আর অন্য পাশে সমুদ্র।

১৬. স্কিপার্স ক্যানিয়ন রোড, নিউ জিল্যান্ডঃ শটওভার নদীর কুল ঘেষে যাওয়া এই রাস্তাটি সুন্দর কিন্তু একই সাথে সংকীর্ণ ও ভীতিকর ।

১৭. স্টেলভিও পাস, ইতালিঃ জিকজ্যাক এই রাস্তা বেয়ে আল্পস পর্বতমালার ঠিক ৯,০৪৫ ফুট উপরে উঠে যেতে পারবেন।

১৮. সুইটেন পাস, সুইজারল্যান্ডঃ হিমবাহ আর সরল শান্ত ও মনোরম উপাত্যাকার কোল ঘেষে কঠিন সব বাঁক পেরিয়ে আল্পস পর্বতমালার গহীনে পৌছে যাবেন।

১৯. ট্রান্স-সাহারা হাইওয়ে, আফ্রিকাঃ পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমির মাঝ দিয়ে যাওয়া ২৮০০ মাইল দীর্ঘ আফ্রিকার ট্রান্স-সাহারা হাইওয়ে তিনটি দেশ, আলজেরিয়া, নাইজার এবং নাইজেরিয়া, পার করে গেছে । ধূলাজড়ের ভয় যদি আপনার নাও থাকে তবে মাঝপথে পেট্রোল ফুরিয়ে গেলে কোথাও জালানী ও পানি না পাওয়ার ভয় আপনাকে অবশ্যই পেতে হবে।

২০. চেসাপিক বে ব্রীজ / টানেল, ভার্জিনিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ পানির উপর দিয়ে যাওয়া ১৭ মাইল দীর্ঘ এই ব্রীজ / টানেল পাড়ি দিতে গিয়ে আপনার পেটে মোচড় দিয়ে বমির উদ্রেক হলে ভয় পাবেন না।

২১. লস কারাকোলেস পাস, চিলিঃ আর্জেন্টিনার সাথে চিলির সংযুক্ত কারী এই সড়কটি দেখতে অনেকটা মাথার কাঁটার বাকের মতো। আবহাওয়া ভালো থাকা অবস্থায় এখানে গাড়ি চালাতে লোকজনকে হিমশিম খেতে তাহলে চিন্তা করুন তুষার ঝড়ে পড়লে এই রাস্তায় আপনার কি অবস্থা হবে!

২২. গ্রেট ওশান রোড, অস্ট্রেলিয়াঃ ভিক্টোরিয়া এবং তাসমানিয়া দ্বীপপুঞ্জের মাঝে সংযোগকারী এই রাস্তা চির সবুজ বনাঞ্চল ও ন্যাশনাল পার্কের ভেতর দিয়ে গেছে।

২৩. এ৮২ রোড, স্কটল্যান্ডঃ রাস্তার দুপাশের উঁচু পাহাড়ের নাটকীয় সৌন্দর্য যেকোন উদাসীন ট্রাভেলারকেও মুগ্ধ করবে।

২৪. গোয়িং-টু-দ্যা-সান রোড, মন্টানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ চমৎকার এই রাস্তাটি তৈরিই করা হয়েছে মানুষকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভালবাসতে শেখাতে।

২৫. দ্য এসএস ১৬৩, ইতালিঃ সড়কপথে চলতে চলতে আমালফি কোস্ট এ সমুদ্রভ্রমণের স্বাদ আর তার সাথে বাগান, প্যাস্টেল গ্রাম, ফিরোজা রংয়ের পানি মিলে একে পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত করেছে।

২৬. দিনালি হাইওয়ে, আলাস্কা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ এখানে প্রকৃতির অকৃত্রিম সৌন্দর্য এখনো আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ।

২৭. চ্যাপম্যান’স পিক, দক্ষিণ আফ্রিকাঃ ৫ কিলোমিটার রাস্তায় ১১৪টি বাঁক আর অন্যদিকে হাউট বে’র সৌন্দর্য, শ্বাসরুদ্ধকর এই রাস্তা আপনাকে সহজে বিচলিত করবে।

২৮. কল দে তুরিনি, ফ্রান্সঃ পাহাড়ের কোল ঘেষে আরেকটি জিকজ্যাক রাস্তা।

২৯. খারদুং লা পাস, কাশ্মীর, ভারতঃ লাদাখ রেঞ্জের এই রাস্তাটি শায়োক ও নুব্রা উপত্যকার প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩০. ব্লু রিজ পার্কওয়ে, উত্তর ক্যারোলিনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ ভার্জিনিয়া এবং উত্তর ক্যারোলিনার সংযোগকারী এউ রাস্তাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরুপ।

৩১. আইসফিল্ডস পার্কওয়ে, আলবার্তো, কানাডাঃ বানফ এবং জ্যাস্পার জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত কিছু দূরবর্তী আদিম বন্য স্থানের রাস্তা।

৩২. চেসাপেক বে ব্রিজ টানেল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ ভার্জিনিয়া বিচ এবং পূর্ব উপকূলের সংযোগকারী ২৩ মাইল দীর্ঘ এই রাস্তাটি এক কথায় অসাধারন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here