আমি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সদস্য। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গাড়িটি এক সপ্তাহ অন্তর অন্তর আসে। সুতরাং, একটা ‘প্রেরণা’ থাকে বইটা এক সপ্তাহে শেষ করার। বইগুলো অবশ্যই বড় বড় হয় না। ছোট ছোট বই-ই পড়ি। মানে আকারে ছোট, তবে সারটুকু ছোট নয় অবশ্যই।

এমন কোনো লাইব্রেরির‌ সদস্য হতে পারেন, যেটা আপনাকে বই যথাসময়ে ফেরত দিতে উৎসাহিত করবে।‌

আর একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে রাখলে তো অবশ্যই ভালো। আসলে, এটাও একটা রুটিনের ভেতর পড়ে। যেমন ধরেন, আমি তো আরবি পুরো জানি না, তাই কুরআন শরিফের অর্থ, ব্যাখ্যা, একেশ্বরবাদিতার সপক্ষের বই, নিরীশ্বরবাদিতার সপক্ষে বই–এসব এক পৃষ্ঠা, দুই পৃষ্ঠা করে পড়ি; ফজরের নামাজ আর মাগরিবের নামাজের পর।‌ পড়ে বোঝার চেষ্টা করি, মুসলমান গৃহে জন্ম বলেই আমি মুসলমান; নাকি জন্মগতভাবেই।

আর নিয়ম করে পড়ার তালিকায় থাকে কোনো না কোনো বিজ্ঞানের বই। হোক জনপ্রিয় বিজ্ঞান বা ‘আসল’ বিজ্ঞান।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে বই পাঠের জন্য একটা উপায় বের করেছি। অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার বইয়ের জন্য পাঁচটা কলাম করুন। এরপর প্রতি কলামে পাঁচটি করে বইয়ের নাম লিখুন, যেগুলো আপনি পড়তে চান; বা পড়া উচিত। এতে করে এলোমেলো পড়া বন্ধ হবে এবং বেশি উপকৃত হবেন। অনেক বই-ই দেখা যায় শেলফে বহু দিন পড়ে থাকে। এই রুটিনের মাধ্যমে ঐ বইগুলোও শেষ হবে।

তাছাড়া বড় বই বা জটিল বই দোহাই দিয়ে যেসব বই ফেলে রেখেছেন, সেগুলোও পড়া হয়ে যাবে। যেকোনো এক ঘরানার বই নিয়ে পড়ে থাকা গ্রন্থ পাঠের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে আমি মত প্রকাশ করি।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here