প্রথমেই বলি,বাংলাদেশ কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিতে অতটাও পিছিয়ে নেই।বিগত ১০ বছরে প্রযুক্তির যে উন্নয়ন হয়েছে তা অভাবনীয়। উদাহরণ দিব না,কারন সচেতন ব্যাক্তি মাত্রই এসবই জানেন।

কিন্তু যখনই বহির্বিশ্বের সাথে তুলনা করতে যাই, দেখা যাবে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে বহুগুনে পিছিয়ে আছে।কেন? কারন টা কি?

আমার মতে সব থেকে বড় কারন হচ্ছে, আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করেই খুশি। আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিবিদ তৈরি হয়না। যাও দুএকজন হয়, তারাও চলে যায় দেশের বাইরে। নাসা, গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক সহ বহু খ্যাতনামা কোম্পানি গুলোতেও কিন্তু বাংলাদেশীরা আছে। একবার ভাবুন তো, তারা যদি আজ দেশের কাজে লাগতো, তাহলে আমরা কতটা এগিয়ে যেতে পারতাম? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এদেশে মেধার মূল্য কম।

আমাদের দেশে কিন্তু অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বুয়েট রুয়েট চুয়েট আরও কত কি! কিন্তু জানেন কি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং এ তাদের টিকি টিও খুজে পাওয়া যায়না। কারন এখানে গবেষনামূলক কার্যক্রম খুবই কম হয়। অথবা হয়ই না।

আবার, আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থা হচ্ছে সার্টিফিকেট নির্ভর। ছাত্ররা পড়াশোনা করে সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য,সেটা দিয়ে চাকরী করার জন্য। প্রযুক্তিবিদ বা ইঞ্জিনিয়ার যাকে বলে, সেটা হওয়ার জন্য নয়।

এবার আসুন মূল পয়েন্টে। প্রযুক্তিতে অগ্রসর হতে হলে ২টা জিনিস অবশ্যই প্রয়োজন – দক্ষ জনশক্তি, গবেষণা মূলক কার্যক্রম। শুধুমাত্র বিদেশী প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নয়ন করা যায়না। আমাদের পদ্মা সেতু, পারমানবিক বিদ্যূৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল, বড় বড় সব প্রজেক্ট করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে আসা লাগে বিদেশ থেকে। তো কিভাবে দেশ এগিয়ে যাবে? আমাদের না আছে দক্ষ জনশক্তি, আর না আছে নতুন কিছু উদ্ভাবন করার মত গবেষণা মূলক কার্যক্রম।

প্রযুক্তিতে আমরা তখনই উন্নত হতে পারব যখন আমরা প্রযুক্তি শুধু ব্যাবহার না করে উদ্ভাবন করার মত সক্ষমতা অর্জন করবো।আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা দরকার। নইলে যুগের পর যুগ আমরা উল্টো পথেই হাটতে থাকবো।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here