বাংলাদেশে ই-কমার্স সাইটগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে না বেশ কয়েকটি কারণে। প্রথমত, অভিজ্ঞতার অভাব। দ্বিতীয়ত ডেলিভারিকৃত প্রোডাক্টের মানগত ত্রুটি, অনেকসময় ভুল প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেয়া। তৃতীয়ত, প্রোডাক্ট ডেলিভারির জন্য সন্তোষজনক সমাধান দিতে না পারা। একজন ক্রেতা কেনো মার্কেট থেকে না কিনে অনলাইনে অর্ডার দিবে তার যথাযথ উত্তর দিতে না পারলে ক্রেতা বাড়বে না।

ধরা যাক আমি একটি পাঞ্জাবী কিনবো। এখন মার্কেটে গিয়ে কিনতে আমার ৪ ঘন্টা লাগবে। আর অনলাইনে কিনতে চাইলে পাঞ্জাবী পেতে ক্ষেত্রবিশেষে ১২ ঘন্টা থেকে ১২ দিন লেগে যাবে। আমার জন্য ইকমার্স কোনো ভ্যালু এড করছে না। এখানে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো যেটা বলেন তা হলো- অযথা যানজট পেরোনোর ঝক্কি না নিয়ে ঘরে বসেই কিনতে পারছেন। ভালো পয়েন্ট। তবে দেশীয় ক্রেতাদের মনস্তত্ত্বও বোঝা জরুরী। দামাদামি করে কিনতে আমরা অভ্যস্ত। দামাদামি করে কেনার মধ্যে আলাদা একটা মজা আছে। তাছাড়া কেনার ফাঁকে কিছুটা ঘোরাঘুরি আর খাওয়া-দাওয়া মিলিয়ে যে আনন্দ পাওয়া যায় তাতে আসা-যাওয়ার ঝক্কি পুষিয়ে যায়। এই ব্যাপারগুলো নিয়ে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারকরা ভাবেন এমন কোনো ছাপ আমাদের দেশের এসেক্টরে এখন পর্যন্ত দেখিনি। তাছাড়া ইকমার্সে প্রাইস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে যে কেলেঙ্কারিগুলো এসেছে (যেমন- শনিবার শার্টের দাম সাইটে ৭০০ টাকা ছিল, সোমবার ৩০%ডিসকাউন্টে ১০০০ টাকা দেখানো) তাতে “অনলাইনে জিনিসের দাম বেশি” জাতীয় মত এখন প্রতিষ্ঠিত।

এরপরে আসা যাক আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। শাদমার্ট থেকে খয়েরি রং এর জুতা অর্ডার দিয়েছিলাম, পেয়েছি হলুদ রং এর। অভিযোগ করার পদ্ধতিও ক্রেতাবান্ধব না। অভিযোগ জানানোর পর কুরিয়ার করে পাঠাতে বলে। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে আর আগাইনি। আমি কিন্তু এরপর আর শাদমার্ট থেকে কিছু কিনিনি।

এরপর আসি চালডাল নিয়ে। তুলনামূলক ভালো সার্ভিস দিচ্ছে অন্যদের থেকে। তবে বিস্কুট জাতীয় বা যেসব খাবার নড়াচড়ায় ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেগুলো প্রায়ই ভাঙ্গা অবস্থায় থাকে। তাই এরকম প্রোডাক্ট অর্ডার করা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকি। দারাজসহ বাকিদের অবস্থা তো আরো ভয়াবহ। এসব কারণে মার্কেট সম্প্রসারণ দূরে থাক হাতে থাকা ক্রেতাও এখন কমছে। এই সেক্টরকে জনপ্রিয় করতে হলে সবার আগে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানকে ক্রেতার চোখ দিয়ে বাজার দেখতে হবে। আপনার প্রোডাক্টের ক্রেতাকে জেতানোর চেষ্টা করুন, আপনার প্রতিষ্ঠান জিতে যাবে। আর নাহলে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজি হারিয়ে বাজার ছাড়তে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here