পুরোপুরি না জানলেও, এতোদিন ধরে গুগল ব্যাবহার করে যতোটা বুঝতে পেরেছি সেটার উপর ভিত্তি করেই লিখছি। আপনি কি কি ব্রাউজ করেন, সেটা গুগলে থেকে যায়, যেটাকে বলা হয় ব্রাউজিং হিস্টরি। আপনি ইন্টারনেটের ব্রাউজিং হিস্টরি মুছে দিলেও কিন্তু গুগলের রেকর্ডে সেটা থেকেই যাবে। আপনি যতোই ক্রোমের হিস্টরি থেকে “Till the beginning of time” হিস্টরি মুছেন, গুগল কিন্তু তার কাজ ঠিকই চালিয়ে যাবে। এটা বন্ধ করতে হলে এই কাজটি করুন…

  • আপনার গুগল অ্যাকাউন্টটি খুলুন।
  • অ্যাকাউন্ট এর সেটিংস এ যান।
  • অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড প্রাইভেসি তে ক্লিক করুন।
  • গুগল অ্যাকাউন্টস হিস্টরি তে ক্লিক করুন।
  • দেখুন ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি লেখা আছে, ওটাতে ক্লিক করে, পজ করে দিন।
  • কনফারমেশন প্রম্পট আসলে ইয়েস ক্লিক করুন। ব্যাস, হয়ে গেল কাজ!

এখান থেকেই ইউটিউব সার্চ এবং ওয়াচ হিস্টরি টাও বন্ধ করে দিতে পারেন।

আপনার নাম, ঠিকানা, ডি এন এস অ্যাড্রেস, নেটওয়ার্ক লোকেশন, সব গুগল কপি করে রাখে। গুগলের লোকেশন হিস্টরি টা ডিঅ্যাক্টিভ করে দিন। দরকার না থাকলে জিপিএস বন্ধ রাখুন।

গুগল সবসময় লক্ষ্য রাখে আপনি ইন্টারনেটে কি করছেন। কোন সাইটে যাচ্ছেন, কি কেনাকাটা করছেন, ইত্যাদি। তার উপরে ভিত্তি করে গুগল আপনার জন্য Predictive Analytics এর সাহায্যে একটি কাস্টোমাইজড সার্চ ডেটাবেজ তৈরি করে ফেলে। তারপর আপনি যখনই কোনকিছু সার্চ করবেন, দেখবেন গুগল আপনার পছন্দের জিনিসগুলোকে সার্চ রেজাল্টের প্রথমদিকে রেখেছে। এবং যত দিন যাবে, এই ডেটাবেজটি ততই উপযোগী হবে। তখন আমরা বলতে পারি যে গুগল আমাদের কিছুটা হলেও বুঝে ফেলেছে। এজন্যেই দেখবেন যে, আপনার এবং আপনার বন্ধুর গুগলে একই জিনিস সার্চ করলে হয়ত সার্চ রেজাল্ট একটু হলেও ভিন্ন আসবে। মানুষ যেমনই হোক না কেন, দুটো মানুষের সব রকমের পছন্দের জিনিসগুলো একই হয় না।

গুগল ক্রোমে দেখবেন, অটোফিল ফর্ম, অটোফিল পাসওয়ার্ড নামক দুটো জিনিস আছে। একটা ফর্ম ফিলাপ করে, আর একটা পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখে যাতে আপনার বারবার একটা সাইটে লগিন করতে পাসওয়ার্ড লিখতে না হয়। অনেকেই পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পারেন না (আমার মা বাবার মতন), অনেকেই বারবার একই জিনিস লিখতে চান না। তাদের জন্যেই এই সুবিধা। ক্রোম বলছি কারন এটা গুগলের তৈরি এবং আমার জানামতে এটিই বহুল ব্যবহৃত ইন্টারনেট ব্রাউজার। নিজের কম্পিউটার বা ল্যাপ্টপ ছাড়া কখনই একটি পাব্লিক কম্পিউটারে নিজের গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগিন করবেন না। আপনার নিজের কম্পিউটার কেউ হ্যাক করবে না, যদি সেখানে পাওয়ার মতন তেমন কোন হীরা জহরত না থাকে। কিন্তু একটি পাব্লিক ডোমেইন এর সার্ভারটা যদি হ্যাক হয়, তাহলে তার সাথে কানেক্টেড সবকিছুই হ্যাকিং এর আওতায় পরে। এই প্যারাগ্রাফের লেখাটা প্রশ্নটির উত্তরের সাথে খাপ খায় কি না জানি না, তবে গুগল যদি আমাদের ব্যাপারে এতোকিছুই জেনে ফেলে, তাহলে আমাদেরও একটু সচেতন হওয়া উচিৎ।

আর একটা ব্যাপার বলছি। আমরা যখন অনলাইনে কেনাকাটা করি, তখন আমাদের ব্যাঙ্ক, অথবা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ইনফরমেশন কিন্তু সেভ হয়ে যায়। অনেকেই সেভ করি না, কিন্তু অনেকেই এটা করি, কারন আমরা কেউই সংখ্যা নিয়ে ঘাটাঘাটি বা একটা সংখ্যা মনে রাখারও প্রয়োজন মনে করি না। তাতে হয় কি, আমাদের সুবিধার্থে আমরা ওই রকম একটা সেন্সিটিভ তথ্যও ক্রোমে সেভ করে রাখি। পাব্লিক ডোমেইনএ গুগল অ্যাকাউন্টে লগিন করলে, কদিন পরে যদি দেখেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, অবাক হবেন না।

এসব জমানো তথ্যের অনেককিছুই দেখবেন ইয়েলোপেজ, এবং এমন অনেক অন্যান্য পেজ এ চলে গেছে। এভাবেই একটা মানুষের অনেককিছুই ইন্টারনেটে যাচ্ছে। একটু সজাগ না থাকলে ভয়াবহ বিপদে পড়তে কিন্তু বেশি সময় লাগবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here