নতুন উদ্যোক্তাদের অনেকেই ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। অল্প পুঁজি আর বিরাট স্বপ্ন নিয়ে টুকটুক করে এগিয়ে যাওয়ার বাসনা থেকেই অনেকে ই-কমার্স ব্যবসায় নেমেছেন, আবার অনেকে নামার পায়তারা করছেন। তাদের জন্যেই আজকের এই লেখা। প্রথমেই একটা শক দেই। ই-কমার্স আসলে কোন ব্যবসা না। এটা কোন ব্যবসার মডেলও না। কি আৎকে উঠলেন ? এটাই সত্যি। তাহলে প্রশ্ন জাগছে মনে – ই-কমার্স তাহলে কি ? ই-কমার্স এর সোজা অর্থ করলে যা দাঁড়ায় ইলেক্ট্রনিক্স কমার্স বা বৈদ্যুতিক বানিজ্য ! হাস্যকর বাংলা করলাম।

ই-কমার্স হচ্ছে, কোন বানিজ্যের ইলেক্ট্রিকিকরন মানে প্রযুক্তির ব্যবহার সংমিশ্রিতি করে বানিজ্যের প্রসেসকে সহজীকরনের পাশাপাশি প্রসারও বৃদ্ধি করা। মূলত ই-কমার্স একটি টুলস। এই টুলসের মাধ্যমে আপনি আপনার যে কোন ব্যবসাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার প্রসেস ও প্রসারকে বৃদ্ধি করতে পারেন। পাশাপাশি অভ্যান্তরীন ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তার জন্যে পণ্য বা সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তাকে সহজতর করে তুলতে পারেন। 

সহজ উদাহরণ দেই। আপনি মানি ব্যাগ তৈরী করবেন। এখন আপনি ছোট একটি কারখানা সেটাপ দিলেন। কারখানায় উৎপাদন হয়। আপনি বিভিন্ন জায়গায় অর্ডার সরবারহ করেন। আপনি চাইছেন আপনার ব্যবসার আরেকটা সেলস উইন্ডো ওপেন হোক। আরো কিছু কাস্টোমার আপনার পণ্য ঘরে বসেই কিনতে পারুক। অথবা অন্য একজন উৎপাদনকারীর পণ্য নিয়ে আপনি একটি টার্গেট গ্রুপের কাছে সেলস করতে চাইছেন। তো, আপনি কি করবেন – একটি স্টোর খুললেন। সেখানে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসলেন। অনলাইনে পেমেন্টের ব্যবস্থা রাখলেন। ক্রেতা পণ্যের অর্ডার করলে হোম ডেলিভারী দেয়ার ব্যবস্থা রাখলেন। 

এখানে দেখুন – আপনার ব্যবসা কি ? মানিব্যাগ তৈরী বা মানিব্যাগ সেলস। অনলাইন স্টোরটা কি করছে, বা এর কাজ কি ? নির্দিষ্ট কাস্টোমারের জন্যে প্রোডাক্ট শোকেসিং করছে এবং বিক্রি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। কাস্টোমার কেন কিনছে ? একটি কোয়ালিটিফুল প্রোডাক্ট তারা বাড়িতে বসেই পেয়ে যাচ্ছে। কাস্টোমারের সময় বেঁচে যাচ্ছে। এই যে কাস্টোমারের ওয়েব সাইটে গিয়ে পণ্য দেখা, পণ্যের অর্ডার করা, পেমেন্ট করা, উৎপাদনকারী বা সরবারহকারী হিসেবে আপনি সেই পন্য আবার লজিষ্টিক সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছে দিচ্ছেন সে আবার ক্রেতার ঠিকানায় পণ্য পৌছে দিচ্ছে। এই অর্ডার, পেমেন্ট কালেকশন, পণ্য ডেলিভারী নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে ডিজিটালি অর্থাৎ ইলেক্টনিক্স টেকনোলজির মাধ্যমে বানিজ্য বা লেনদেনটি সম্পন্ন হয়েছে বলেই এটিকে ই-কমার্স বলা হচ্ছে।

নতুন উদ্যোক্তারা এখন কোন ব্যবসা শুরু করার আগে সেই ব্যবসার মডেলটি ডেভলপ করে নিবেন এবং ই-কমার্স টুলসের মাধ্যমে সেলস করতে চাইলে – টার্গেট কাস্টোমার, মার্কেট সাইজ, মার্কটে সেগমেন্টেশন, প্রোডাক্ট ভ্যালু প্রপোজিশন, ইউনিক সেলস পয়েন্ট, মার্কেট একসেসিং প্ল্যান, মার্কেটিং এন্ড সেলস প্ল্যান, ব্র্যান্ডিং প্ল্যান, কাস্টোমার সার্ভিস প্ল্যান, কম্পিটিটর এনালাইসিস, সোয়াট এনালাইসিস, পিইএসটি এনলাইসিস ইত্যাদি সম্পর্কে আইডিয়া নিয়ে তারপরে ব্যবসায় নামবেন। 

ই-কমার্সের জন্যে আরো যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে – আপনি কোন টাইপের ই-কমার্স ফলো করে ব্যবসা করবেন ? বিটুবি ? বিটুসি ? বিটুবিটুসি ? ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি যখন কাজে নামবেন তখন আপনাকে কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট সামাল দিতে হবে যেমন – টেকনিক্যাল ডেভলপমেন্ট, প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট, প্রোডাক্ট শোকেসিং, সেলস এন্ড মার্কেটিং, কাস্টোমার সার্ভিস, লজিষ্টিক ডিপার্টমেন্ট, পেমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এবং সব কিছু মিলিয়ে অপারেশন ম্যানেজমেন্ট। 

আশা করব আমার এই লেখাটি নতুন উদ্যোক্তাদের কাজে লাগবে। ভেবে চিন্তে ব্যবসায় নামতে সহায়তা করবে। ব্যবসা বানিজ্য আমি খুব ভাল বুঝি না। অভিজ্ঞতা থেকে নিজে যা বুঝেছি তাই শেয়ার করলাম। এক্সপার্টগন কোন বিষয়ে ভুলত্রুটি পেলে জানাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here