Categories
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিটকয়েন নামক সোনার হরিণের গল্প !

বিটকয়েন এর নাম শুনেন নাই কে? উহু একটা শব্দ ও আসলনা। তার মানে সবাই শুনেছেন। আচ্ছা বিট কয়েন কি কে বলতে পারবেন? খুব অল্প হাত দেখা যাচ্ছে। চলুন তাইলে জেনেই নেই। আমরা সবাই কি ১০০, ৫০০, ১০০০ টাকার নোট দেখেছি? আমরা কি জানি অর্থনীতি তে এ ধরনের নোট কে যে কারেন্সি বলে? হ্যা জানি। এক ই ভাবে বিট কয়েন ও হল একটা ভারচুয়াল কারেন্সি, যেটা কে দেখা যায় না বা ছোয়া যায় না। যায় শুধু ট্রান্সফার করা এবং ক্যাল্কুলেট করা। ২০০৯ সালে satoshi nakamoto নামের একজন জাপানিজ ব্যাক্তি বিট কয়েন আবিস্কার করেন। তখন ও মানুষ বুঝতে পারেনি একটা সময় গিয়ে বিট কয়েন এত টা দামী হয়ে যাবে। ২০২০ সালের ২০ এপ্রিল তারিখে অর্থ্যাৎ আজকের বাজারে ১ বিটকয়েন সমান ৭,০৩৬ ডলার যা টাকায় কনভার্ট করলে দাঁড়ায় ৫,৯৭,৮৪২ টাকা। কল্পনা করা যায়?

কেন বিটকয়েন এর এত দাম? জানি এই প্রশ্নটাই আপনাদের মনে ঘুরছে। আমাদের মানিব্যাগে যে কাগজের নোট থাকে সেই নোট গুলো চাইলেই সরকার বা কতৃপক্ষ একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর ছাপাতে পারে বা পারবে। কিন্তু বিটকয়েন এর একটা নির্দিষ্ট সীমা রেখা রয়েছে সেটা হল ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন। এই ২১ মিলিয়ন কয়েন পার হয়ে গেলে পৃথিবীতে আর নতুন কোন বিটকয়েন থাকবে না। অর্থনীতির ভাষায় সাপ্লাই কম হলে ডিমান্ড কি যেন হয়? হ্যা ঠিক, ডিমান্ড বেশি থাকে। ঠিক ধরতে পেরেছেন। আরো একটি বড় কারণ রয়েছে বিট কয়েন এর এত মূল্য বাড়ার পিছনে৷ শুনে অবাক হবেন Satoshi মহাশয় এর শুধু নাম ই জানা গেছে তাকে কখন ও দেখা যায় নি। Satoshi সাহেব শুধু একটা এলগোরিদম বানাই দিয়েছিলেন যেখানে কোডিং করা আছে কিভাবে বিটকয়েন সৃষ্টি হবে এবং এক একাউন্ট থেকে আরেক একাউন্ট এ ট্রান্সফার হবে। এর মানে দাড়ালো বিট কয়েন এর কোন লিগাল অথোরিটি নেই, নেই কোন কন্ট্রোলার। এমন ও দেখা গিয়েছে আজ যে ১ বিটকয়েন সমান ২১০০ ডলার আগামীকাল সেই বিটকয়েন ৮০০০ ডলার। সো এখানে বিটকয়েন ইউসারদের দর কষাকষির উপর ডিপেন্ড করেই মূলত বিটকয়েন এর দাম নির্ধারিত হয়।

আপনাদের মনে এখন আরেকটা প্রশ্ন ঘুরছে আমি জানি। প্রশ্নটা হল বিটকয়েন আবার সৃষ্টি হয় কিভাবে৷ এটা একটা ইন্টারেস্টিং ইনফরমেশন, শুনুন তবে। বিটকয়েন সৃষ্টির যেই প্রসেস তাকে বলা হয় বিট কয়েন মাইনিং। ব্যাপারটা পরিস্কার করে বলছি। ধরুন আপনি আপনার ওয়ালেট থেকে আমার ওয়ালেট এ ১০০ বিটকয়েন ট্রান্সফার দিলেন। এই ট্রান্সফার টা হবে কিভাবে? ব্যাংকে তো এই কাজ করার জন্য অনেক এম্লয়ী থাকে এখানে তো সে রকম কেও নেই। তাইলে ট্রান্সফার টা হবে কিভাবে? হবে ভাই হবে। এই ট্রান্সফার করার কাজটাই বিটকয়েন মাইনার করে থাকে। মাইনার এর কাজ হল একটা কম্পিউটার আর মাইনিং এর সফটওয়্যার নিয়ে বসে থাকা। কোন ট্রান্সফার অর্ডার আসলে কোডিং করে এক ওয়ালেট এড্রেস থেকে আরেক ওয়ালেট এড্রেসে ট্রান্সফার করে দেয়া। এই যে ১০০ বিটকয়েন ট্রান্সফার করতে সে আপনাকে সাহায্য করল তার বিনিময়ে সে ০.০১ বিটকয়েন (০.০১ সাতসী) পাবে পারিশ্রমিক হিসেবে। এই পারিশ্রমিক টা কিন্তু ১০০ বিটকয়েন থেকে আসবে না। এটা অটোমেটিক জেনারেট হবে ঐ ১০০ বিটকয়েন এর ট্রাঞ্জেকশন থেকে। আর এভাবেই মূলত বিটকয়েন সৃষ্টি হয়। আর বিটকয়েন এর এই ভগ্নাংশের নাম হল সাতসী, যেটা বিটকয়েনের আবিস্কারক এর নামানুসারেই রাখা হয়েছে।

এবার দেখি বিটকয়েন কেন দিন দিন এত পপুলার হয়ে যাচ্ছে। এই যে একটু আগে আপনি আমাকে ১০০ বিটকয়েন ট্রান্সফার দিলেন। এই সমপরিমান টাকা যদি ব্যাংক, পেপাল, পাইজা ইত্যাদির মাধ্যমে দিতেন অনেক ডকুমেন্টেশন এবং প্রসেস এর মধ্য দিয়ে যেতে হত। সব থেকে বড় কথা একটা বিশাল অংকের টাকা তারা চার্জ হিসেবে কেটে রেখে দিত। যেই ঝামেলা বিটকয়েন এ নেই। বুঝা গেল?

আপনি যদি চান আপনি ও একটা বিটকয়েন একাউন্ট খুলতে পারবেন। এবার কয়েন পেতে হলে তিনটা উপায় আছে। প্রথমত আপনি অনলাইনে বা অফলাইনে প্রোডাক্ট সেল করে বিট কয়েনে পেমেন্ট নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত বিটকয়েন আছে এরকম কোন ব্যাক্তির কাছ থেকে বিটকয়েন কিনে নিতে পারেন। আর যেটা পারেন তা হল মাইনিং করতে। বিটকয়েন মাইনিং করা এত টা ও সহজ কাজ না। এর জন্য লাগে চমৎকার ম্যাথ সলভ করার দক্ষতা। আর যেটা লাগে তা হল অনেক শক্তিশালী একটা কম্পিউটার। বাজারে যেই কম্পিউটার আপনি গেমস খেলার জন্য সব থেকে শক্তিশালী বলে মনে করেন ওটা ও অনেক দূর্বল মনে হবে মাইনিং কম্পিউটার এর সামনে। মাইনিং করার কম্পিউটার তৈরি করতে মোটামোটি ভাবে ৪-৫ লাখ টাকা লেগে যায়।

আর হ্যা বাংলাদেশ সরকার বিটকয়েন কে নিষিদ্ধ করেছে। সো মাইনিং করতে নামলে নিজ দায়িত্বে নামুন।

One reply on “বিটকয়েন নামক সোনার হরিণের গল্প !”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *