Categories
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্প্যামিং কী ?

স্পাম হছে অনাকাঙ্খিত, অবাঞ্চিত কোনো বার্তা বা লিংক, যা সাধারণত ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে ইউজারের কাছে প্রেরণ করা হয়। স্পামের মাধ্যমে সাধারণত বিভিন্ন পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপণ যেমন বিভিন্ন প্রকার লোন, দ্রততম সময়ে বড়লোক হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ, অর্থ উপার্জনের উপায়, লটারি সহ বিভিন্ন  ইত্যাদি  পাঠানো হয়। অনেক সময় বিভিন্ন নিউজ গ্রুপ বা বুলেটিনবোর্ডে অপ্রাসঙ্গিক পোস্টকেও স্পাম বলা হয়।

স্পেমিং  মানে যে জিনিসটা অপ্রত্যাশিত বা  অনাকাঙ্খিত। আর একটু ভালেভাবে বললে যা না চাইতেই এসে পরে। বিভিন্ন ওয়েব-সাইটে, ব্লগে, পেইজে, ইমেইলে স্পেমিং করে স্প্যাম্পাররা। এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা বিভিন্ন সাইট, ব্লগে স্পেমিং  করে থাকে। তাদের স্প্যাম্পার বলে।

 স্প্যাম্প করলে

* সাইটে ভাইরাস ছড়িয়ে পরে। 

* সাইট দূর্বল হয়ে যায় । 

* সাইট হ্যাক করার উদ্দেশ্যেও স্প্যাম্পিং করা হয়।

স্পামের মাধ্যমে সাধারণত বিভিন্ন সস্তা পন্যের বা সেবার বিজ্ঞাপণ যেমন বিভিন্ন প্রকার লোন, দ্রততম সময়ে বড়লোক হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ, অর্থ উপার্জনের উপায়, লটারি সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিজ্ঞাপণ ইত্যাদি প্রেরন করা হয়। অনেক সময় বিভিন্ন নিউজ গ্রুপ বা বুলেটিনবোর্ডে অপ্রাসঙ্গিক পোস্টকেও স্পাম বলা হয়। স্পাম নামটি এসেছে বিখ্যাত হরমেল ফুডের খাদ্যপন্য “স্পাম”(শূকরের মাংস থেকে তৈরী খাবার)থেকে। স্পামকে “জাংক মেইল” ও বলা হয়।

Categories
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিটকয়েন নামক সোনার হরিণের গল্প !

বিটকয়েন এর নাম শুনেন নাই কে? উহু একটা শব্দ ও আসলনা। তার মানে সবাই শুনেছেন। আচ্ছা বিট কয়েন কি কে বলতে পারবেন? খুব অল্প হাত দেখা যাচ্ছে। চলুন তাইলে জেনেই নেই। আমরা সবাই কি ১০০, ৫০০, ১০০০ টাকার নোট দেখেছি? আমরা কি জানি অর্থনীতি তে এ ধরনের নোট কে যে কারেন্সি বলে? হ্যা জানি। এক ই ভাবে বিট কয়েন ও হল একটা ভারচুয়াল কারেন্সি, যেটা কে দেখা যায় না বা ছোয়া যায় না। যায় শুধু ট্রান্সফার করা এবং ক্যাল্কুলেট করা। ২০০৯ সালে satoshi nakamoto নামের একজন জাপানিজ ব্যাক্তি বিট কয়েন আবিস্কার করেন। তখন ও মানুষ বুঝতে পারেনি একটা সময় গিয়ে বিট কয়েন এত টা দামী হয়ে যাবে। ২০২০ সালের ২০ এপ্রিল তারিখে অর্থ্যাৎ আজকের বাজারে ১ বিটকয়েন সমান ৭,০৩৬ ডলার যা টাকায় কনভার্ট করলে দাঁড়ায় ৫,৯৭,৮৪২ টাকা। কল্পনা করা যায়?

কেন বিটকয়েন এর এত দাম? জানি এই প্রশ্নটাই আপনাদের মনে ঘুরছে। আমাদের মানিব্যাগে যে কাগজের নোট থাকে সেই নোট গুলো চাইলেই সরকার বা কতৃপক্ষ একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর ছাপাতে পারে বা পারবে। কিন্তু বিটকয়েন এর একটা নির্দিষ্ট সীমা রেখা রয়েছে সেটা হল ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন। এই ২১ মিলিয়ন কয়েন পার হয়ে গেলে পৃথিবীতে আর নতুন কোন বিটকয়েন থাকবে না। অর্থনীতির ভাষায় সাপ্লাই কম হলে ডিমান্ড কি যেন হয়? হ্যা ঠিক, ডিমান্ড বেশি থাকে। ঠিক ধরতে পেরেছেন। আরো একটি বড় কারণ রয়েছে বিট কয়েন এর এত মূল্য বাড়ার পিছনে৷ শুনে অবাক হবেন Satoshi মহাশয় এর শুধু নাম ই জানা গেছে তাকে কখন ও দেখা যায় নি। Satoshi সাহেব শুধু একটা এলগোরিদম বানাই দিয়েছিলেন যেখানে কোডিং করা আছে কিভাবে বিটকয়েন সৃষ্টি হবে এবং এক একাউন্ট থেকে আরেক একাউন্ট এ ট্রান্সফার হবে। এর মানে দাড়ালো বিট কয়েন এর কোন লিগাল অথোরিটি নেই, নেই কোন কন্ট্রোলার। এমন ও দেখা গিয়েছে আজ যে ১ বিটকয়েন সমান ২১০০ ডলার আগামীকাল সেই বিটকয়েন ৮০০০ ডলার। সো এখানে বিটকয়েন ইউসারদের দর কষাকষির উপর ডিপেন্ড করেই মূলত বিটকয়েন এর দাম নির্ধারিত হয়।

আপনাদের মনে এখন আরেকটা প্রশ্ন ঘুরছে আমি জানি। প্রশ্নটা হল বিটকয়েন আবার সৃষ্টি হয় কিভাবে৷ এটা একটা ইন্টারেস্টিং ইনফরমেশন, শুনুন তবে। বিটকয়েন সৃষ্টির যেই প্রসেস তাকে বলা হয় বিট কয়েন মাইনিং। ব্যাপারটা পরিস্কার করে বলছি। ধরুন আপনি আপনার ওয়ালেট থেকে আমার ওয়ালেট এ ১০০ বিটকয়েন ট্রান্সফার দিলেন। এই ট্রান্সফার টা হবে কিভাবে? ব্যাংকে তো এই কাজ করার জন্য অনেক এম্লয়ী থাকে এখানে তো সে রকম কেও নেই। তাইলে ট্রান্সফার টা হবে কিভাবে? হবে ভাই হবে। এই ট্রান্সফার করার কাজটাই বিটকয়েন মাইনার করে থাকে। মাইনার এর কাজ হল একটা কম্পিউটার আর মাইনিং এর সফটওয়্যার নিয়ে বসে থাকা। কোন ট্রান্সফার অর্ডার আসলে কোডিং করে এক ওয়ালেট এড্রেস থেকে আরেক ওয়ালেট এড্রেসে ট্রান্সফার করে দেয়া। এই যে ১০০ বিটকয়েন ট্রান্সফার করতে সে আপনাকে সাহায্য করল তার বিনিময়ে সে ০.০১ বিটকয়েন (০.০১ সাতসী) পাবে পারিশ্রমিক হিসেবে। এই পারিশ্রমিক টা কিন্তু ১০০ বিটকয়েন থেকে আসবে না। এটা অটোমেটিক জেনারেট হবে ঐ ১০০ বিটকয়েন এর ট্রাঞ্জেকশন থেকে। আর এভাবেই মূলত বিটকয়েন সৃষ্টি হয়। আর বিটকয়েন এর এই ভগ্নাংশের নাম হল সাতসী, যেটা বিটকয়েনের আবিস্কারক এর নামানুসারেই রাখা হয়েছে।

এবার দেখি বিটকয়েন কেন দিন দিন এত পপুলার হয়ে যাচ্ছে। এই যে একটু আগে আপনি আমাকে ১০০ বিটকয়েন ট্রান্সফার দিলেন। এই সমপরিমান টাকা যদি ব্যাংক, পেপাল, পাইজা ইত্যাদির মাধ্যমে দিতেন অনেক ডকুমেন্টেশন এবং প্রসেস এর মধ্য দিয়ে যেতে হত। সব থেকে বড় কথা একটা বিশাল অংকের টাকা তারা চার্জ হিসেবে কেটে রেখে দিত। যেই ঝামেলা বিটকয়েন এ নেই। বুঝা গেল?

আপনি যদি চান আপনি ও একটা বিটকয়েন একাউন্ট খুলতে পারবেন। এবার কয়েন পেতে হলে তিনটা উপায় আছে। প্রথমত আপনি অনলাইনে বা অফলাইনে প্রোডাক্ট সেল করে বিট কয়েনে পেমেন্ট নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত বিটকয়েন আছে এরকম কোন ব্যাক্তির কাছ থেকে বিটকয়েন কিনে নিতে পারেন। আর যেটা পারেন তা হল মাইনিং করতে। বিটকয়েন মাইনিং করা এত টা ও সহজ কাজ না। এর জন্য লাগে চমৎকার ম্যাথ সলভ করার দক্ষতা। আর যেটা লাগে তা হল অনেক শক্তিশালী একটা কম্পিউটার। বাজারে যেই কম্পিউটার আপনি গেমস খেলার জন্য সব থেকে শক্তিশালী বলে মনে করেন ওটা ও অনেক দূর্বল মনে হবে মাইনিং কম্পিউটার এর সামনে। মাইনিং করার কম্পিউটার তৈরি করতে মোটামোটি ভাবে ৪-৫ লাখ টাকা লেগে যায়।

আর হ্যা বাংলাদেশ সরকার বিটকয়েন কে নিষিদ্ধ করেছে। সো মাইনিং করতে নামলে নিজ দায়িত্বে নামুন।

Categories
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

NFC কি ? কিভাবে NFC কাজ করে ? কি কাজে ব্যবহার করা হয়?

আমরা প্রাই সবাই কখনো না কখনো আমাদের মোবাইলে NFC নামের একটা option দেখেছি বা কোথাও না কোথাও NFC শব্দটা শুনেছি কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে আসলে NFC টা কি! কি কাজে ব্যবহার করা হয় এবং কিভাবে ব্যবহার করা হয়!? তাই আজকে আমরা সহজ ভাষায় সংক্ষেপে NFC সম্পর্কে আপনাদের জানাবো!
NFC বলতে “Near Field Communication” কে বুঝায়। নামেই কথা বলে, এটা দ্বারা অনেক কম দূরত্বের দুটি ডিভাইসের মধ্যে কমিউনিকেট করা যায়।মোটামুটি দুটি ডিভাইসকে জড়াজড়ি অবস্থায় রাখলেই হয়।
এই কমিউনিকেশনের জন্য একটা ট্রান্সমিটিং ডিভাইস লাগে আর আরেকটা লাগে যেটা সিগন্যাল রিসিভ করে।জিনিসটা আসলে ব্লুটুথের মত মনে হলেও ব্লুটুথ না। চলেন তাইলে এগুলা বুঝতে ফিজিক্স ক্লাস করি আজকে।
NFC ডিভাইস আসলে দুই ধরনের

  1. Active ও
  2. Passive.আবার স্ট্যান্ডার্ড ডিভাইসগুলা Active, Passive দুইভাবেই আচরন করতে পারে

এখন Active কোনগুলা আর Passive কোনগুলা?
Passive NFC ডিভাইসগুলা হল বিভিন্ন ট্যাগ[1] (হ্যাশট্যাগ না কিন্তু আবার) এবং ছোটছোট ট্রান্সমিটার যেগুলো active ডিভাইসে বিভিন্ন ড্যাটা পাঠাতে পারে, কিন্তু তাদের কোন ধরনের ব্যাটারি থাকেনা বা পাওয়ার সাপ্লাইও না!অর্থাৎ কোন ধরনের শক্তি ছাড়াই এটা ড্যাটা ট্রান্সমিট করতে পারে!
কি? তব্দা খাইলেন? এরকম জিনিস আগে কখনো শুনেন নাই? আসলে শুনসেন, এটা ক্লাস ৯-১০ এর সিম্পল ফিজিক্স 😛
Passive Device অন্য Passive Device এর সাথে কানেক্ট হতে পারেনা, এরা কোন ধরনের ড্যাটা প্রসেসও করতে পারে না(যদি না হাইলি প্রোগ্রামড জিনিসপাতি হয়), শুধু পাঠাতে পারে।
Active ডিভাইস ড্যাটা সেন্ডও করতে পারে, রিসিভও করতে পারে। দুইটা Active Device নিজেদের মধ্যেও কানেক্ট হতে পারে। NFC এখন স্মার্টফোনে ব্যবহ্রত হলেও এগুলা আগে থেকেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কার্ড রিডার, টাচ পেমেন্ট টার্মিনালে ব্যবহার করা হয় (বাংলাদেশে না আর কি)।
NFC কিভাবে কাজ করে আর Passive Device কিভাবে পাওয়ার সাপ্লাই ছাড়া ড্যাটা দেয়?
ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই সবধরনের ওয়ারলেস সিগন্যালের মত NFC ও বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে ড্যাটা পাঠায়(হিহি, ফিজিক্স ক্লাস নিতাসি :p)। তবে NFC টেকনলজি পুরানো RFID (Radio-frequency identification) এর ভিত্তিতে তৈরি যা তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশের মাধ্যমে ইনফরমেশন ট্রান্সমিট করে।

NFC এর সাথে Bluetooth/WiFi এর এখানে পার্থক্য আছে। কোন Active Device তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশের মাধ্যমে ইনফরমেশন ট্রান্সমিট করে,সেহেতু একইসাথে passive component কে তড়িত আবেশিত করতে পারে। ফলে passive component ড্যাটা দেয়ার মত যথেষ্ট শক্তি তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশ থেকে পেয়ে যায় এবং এটার বাড়তি কোন পাওয়ার সোর্সের দরকার পড়েনা। তবে এজন্য দুইটা ডিভাইসকেই অনেক কাছে আনতে হয়।
এখন এটা পড়ে নিশ্চয় আপনার ‘বিশিষ্ট’ কম্পনা শুরু হয়ে গেসে, ইস, এভাবে যদি ফোনও চার্জ দেয়া যেত! যদিও NFC technology ফোন চার্জ দেয়ার মত এতবেশি আবেশ সৃষ্টি করতে পারেনা, তবে মনে রাইখেন, আরো নতুন টেকনলজি QI charging কিন্তু একইভাবেই কাজ করে।
যদিও মনে হচ্ছে NFC -র কোন দরকার নাই, কারণ এটা অনেক কম দূরত্বে কাজ করে (১০ সেমি)। তারচেয়ে ব্লুটুথ ১০ মিটারের মধ্যে কাজ করে,NFC এর চেয়ে দ্রুত ড্যাটা ট্রান্সফারও করে(NFC 424 kbit/s, Bluetooth2.1 2.1 Mbit/s )
কিন্তু NFC অনেক কম পাওয়ার খরচ করে, এমনকি Bluetooth 4.0 থেকেও যার নাম Bluetooth low energy.

আবার দ্রুত কানেক্ট হওয়ার ক্ষেত্রে NFC এগিয়ে কারণ এটা পেয়ারিং-এর ঝামেলায় যায়না। এর ‘inductive coupling’ এক সেকেন্ডের দশভাগের একভাগ সময়ে দুইটা ডিভাইস কানেক্ট করে ফেলতে পারে!
খেয়াল করে দেখবেন বিভিন্ন ওয়াইফাই ট্রান্সফার এপ্লিকেশনে NFC দিয়ে কানেক্ট করে, তারপর ওয়াইফাই দিয়ে ফাইল ট্রান্সফার করে, কারণ দুইটা প্রযুক্তিই দুইদিকে দ্রুততর।

NFC কিভাবে কাজ করে??

NFC আসলে এন্টেনা এর সাহায্যে কাজ করে, এই এন্টেনা এক এক মেবাইলের এক এক স্থানে লাগানো থাকে। যেমন Samsung ফোন এর ব্যাটারী এর পেছনে বা ব্যাক কভার এ লাগানো থাকে।

কি কি কাজে ব্যবহার করা হয় NFC?

.Data transfer
আমরা ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি NFS Data transfer সম্পর্কে। আপনি NFC সমর্থিত ২টি স্মার্টফোন খুব কাছাকাছি এনে দরেন ২০ সেমি. (৭ ইঞ্চি) এর কম দূরত্বে বা একেবারে মিলিয়ে পেলেন তাহলে ঔ দুই টি স্মার্টফোন খুব সহজে কমিউনিকেশন করতে পারবে,অর্থাৎ Data Transfer করতে পারবে।

২. Mobile Payments 
দ্বিতীয় যে কাজে NFC সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে Mobile Payment। আমরা সবাই কম-বেশি এন্ড্রোইড পে, আপেল পে, স্যামসুং পে’র নাম শেনেছি যেগুলা দিয়ে পেমেন্ট করা যায়, এগুলা NFC দ্বারা কাজ করে। আপনার ব্যাংক কার্ড এর সব তথ্য NFC এর মাধ্যমে আপনার মোবাইল’এ সেভ করে রাখলে পেমেন্ট কার্ড রিডার (পেমেন্ট মেশিন) এর উপর আপনার মোবাইল টা ধরলেই কাজ হয়ে গেছে( পেমেন্ট কমপ্লেটেড খুবই সল্প সময়ের মধ্যে)

৩. Device PairingDevice Pairing এর জন্যেও বর্তমানে NFC ভাল একটা মাধ্যম। আপনি যে কোন ধরনের NFC সাপোর্টেড Device তথা ব্লুএটুথ স্পিকার,ব্লুএটুথ হেডফোন,টেলিভিশন ইত্যাদি’র সাথে আপনার মোবাইল কানেক্ট করতে আপনার মোবাইল শুধু মাএ Device এর পাশে নিয়ে ধরলে অটোমেটিক
কানেক্ট হয়ে যাবে,কোন রকম পারমিশন এনাবল করা ছাড়াই।

৪. NFC Tagআমরা ছোট বেলায় সবাই স্টিকার নিয়ে খেলতে পছন্দ করতাম,আর NFC Tag গুলা ও হচ্ছে এই রকম ছোট ছোট স্টিকার এর মতো, যার মধ্যে আপনি আপনার কিছু তথ্য জমা রাখতে পারবেন, আর চাইলেই খুব সল্প সময়ের মধ্যে ঔ তথ্য গুলা কপি করে আপনার মোবাইল এ নিয়ে নিতে পারবেন বা অন্য কেউ চাইলে তাকেও দিতে পারবেন। যেমন আপনি আপনার বাসার Wifi এর পাসওয়ার্ড একটা NFC Tag (স্টিকার) এ সেভ করে তা আপনার বাসার দেওয়ালে লাগিয়ে দিলেন, এখন যে কেও এসে আপনার কাছে আপনার বাসার Wifi এর পাসওয়ার্ড চাইলেই সে যদি তার ফোন ঔ NFC Tag এর উপর দরে সাথে সাথে তার মেবাইলে Wifi কানেক্ট হয়ে যাবে।

৫. NFS Business Card
NFC বর্তমানে Business Card গুলি কেও অনেক সহজ করে তুলেছে, যেকোনো কোম্পানী বা কোন ব্যক্তির যদি Business Card থাকে, তাহলে ঔ Business Card এর মধ্যে যদি NFC এর একটা টুল লাগিয়ে দিয়ে ঔ খানে যদি ঔ কোম্পানীর বা ব্যক্তির সব তথ্য সেভ করে রাখা হয়, তাহলে আপনি ঔ কোম্পানীর বা ব্যক্তির সব তথ্য জানতে আপনার মোবাইলের NFC On করে ঔ Card এর উপর নিয়ে দরলেই তাদের সব রকম তথ্য পেয়ে জাবেন।

৬. NFC Ring
বর্তমানে তো NFC Ring(আংটি) ও আবিষ্কার করে ফেলেছে, যার মধ্যে ও আপনি অনেক তথ্য জমা রাখতে পারবেন, ঔ টাকে স্মার্ট রিং ও বলা যায়।

Categories
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে কেন পিছিয়ে রয়েছে?

প্রথমেই বলি,বাংলাদেশ কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিতে অতটাও পিছিয়ে নেই।বিগত ১০ বছরে প্রযুক্তির যে উন্নয়ন হয়েছে তা অভাবনীয়। উদাহরণ দিব না,কারন সচেতন ব্যাক্তি মাত্রই এসবই জানেন।

কিন্তু যখনই বহির্বিশ্বের সাথে তুলনা করতে যাই, দেখা যাবে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে বহুগুনে পিছিয়ে আছে।কেন? কারন টা কি?

আমার মতে সব থেকে বড় কারন হচ্ছে, আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করেই খুশি। আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিবিদ তৈরি হয়না। যাও দুএকজন হয়, তারাও চলে যায় দেশের বাইরে। নাসা, গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক সহ বহু খ্যাতনামা কোম্পানি গুলোতেও কিন্তু বাংলাদেশীরা আছে। একবার ভাবুন তো, তারা যদি আজ দেশের কাজে লাগতো, তাহলে আমরা কতটা এগিয়ে যেতে পারতাম? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এদেশে মেধার মূল্য কম।

আমাদের দেশে কিন্তু অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বুয়েট রুয়েট চুয়েট আরও কত কি! কিন্তু জানেন কি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং এ তাদের টিকি টিও খুজে পাওয়া যায়না। কারন এখানে গবেষনামূলক কার্যক্রম খুবই কম হয়। অথবা হয়ই না।

আবার, আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থা হচ্ছে সার্টিফিকেট নির্ভর। ছাত্ররা পড়াশোনা করে সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য,সেটা দিয়ে চাকরী করার জন্য। প্রযুক্তিবিদ বা ইঞ্জিনিয়ার যাকে বলে, সেটা হওয়ার জন্য নয়।

এবার আসুন মূল পয়েন্টে। প্রযুক্তিতে অগ্রসর হতে হলে ২টা জিনিস অবশ্যই প্রয়োজন – দক্ষ জনশক্তি, গবেষণা মূলক কার্যক্রম। শুধুমাত্র বিদেশী প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নয়ন করা যায়না। আমাদের পদ্মা সেতু, পারমানবিক বিদ্যূৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল, বড় বড় সব প্রজেক্ট করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে আসা লাগে বিদেশ থেকে। তো কিভাবে দেশ এগিয়ে যাবে? আমাদের না আছে দক্ষ জনশক্তি, আর না আছে নতুন কিছু উদ্ভাবন করার মত গবেষণা মূলক কার্যক্রম।

প্রযুক্তিতে আমরা তখনই উন্নত হতে পারব যখন আমরা প্রযুক্তি শুধু ব্যাবহার না করে উদ্ভাবন করার মত সক্ষমতা অর্জন করবো।আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা দরকার। নইলে যুগের পর যুগ আমরা উল্টো পথেই হাটতে থাকবো।